* সারাদেশে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত * জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২ বাসে আগুন, ৭টি ককটেল বিস্ফোরণ * ঢাবি প্রক্টরিয়াল কমিটির সিদ্ধান্ত বহিরাগত থাকতে পারবে না ক্যাম্পাসে * ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রংপুর ও রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে
শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েনি
আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে রাজধানীসহ সারাদেশে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রাজধানীর ঢাকা কলেজের সামনে ১ জন, ঢাকা সিটি কলেজের সামনে ১ জন, চট্টগ্রামে ৩ জন ও রংপুরে ১ জন রয়েছে। সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২টি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। সেখানে সাতটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের এক দফা দাবির আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশ। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, রংপুর, বগুড়া ও রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানীর ঢাকা কলেজ এলাকায় সংঘর্ষে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক (২৭) নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ওই যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন এক পথচারী। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে। এসময় কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পথচারীসহ ৫৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়াও রাজধানীর ঢাকা সিটি কলেজের সামনে থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন তাকে উদ্ধার করেন।
জানা গেছে, স্থানীয়রা সিটি কলেজের সামনে এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে পপুলার মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঢাকা সিটি কলেজের সামনে থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে যাকে আনা হয়েছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। অপরদিকে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চট্টগ্রামে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ ১৫ জনসহ আহত হয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর মুরাদপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিকেল ৪টার দিকে আহত কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে তিন জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতদের মধ্যে দুজনের বুকে-পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
নিহতরা হলেন মো. ওমর ফারুক (৩২), ওয়াসিম আকরাম (২৩) ও ফিরোজ আহমেদ (২৪)। এরমধ্যে ফারুক স্থানীয় একটি ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী, ওয়াসিম চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এবং কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। ফিরোজের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। স্থানীয় সূত্র জানায়, নগরীর মুরাদপুর এলাকায় এই সংঘর্ষ শুরু হলেও তা ছড়িয়ে পড়ে বহদ্দারহাট থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত। কয়েক কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। একপক্ষ অপরপক্ষের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন অস্ত্রধারীকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হামলা ও গুলি ছুড়েছেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে অন্তত শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিকাল ৩টা থেকে নগরীর ষোলশহর স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের। এর আগেই ষোলশহর স্টেশন দখল করে রাখেন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা। আন্দোলনকারীরা মুরাদপুরে অবস্থান নেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা ষোলশহর থেকে মিছিল নিয়ে মুরাদপুরে গেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছোড়ে। এতে তিন জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নুজহাত ইনু বলেন, আহতদের হাসপাতালে আনা হলে তিন জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে ওয়াসিমকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ফারুককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনা হয়েছিল। তার বুকে গুলি লেগেছে। ফিরোজের পিঠে গুলির চিহ্ন আছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল আলম আশিক বলেন, সংঘর্ষে আহতদের হাসপাতালে আনা হলে তিন জনকে মৃত ঘোষণা করেছেন চিকিৎসক। আহত অন্তত ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে। এরমধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে একজন পথচারী, আরেকজন ছাত্র, অপরজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। দুজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে কতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা জানা নেই আমার।
সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার আশরাফুল আলম বলেন, বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে রংপুরে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে কোটা সংস্কারের এক আন্দোলনকারী নিহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পুলিশের রাবার বুলেট নিক্ষেপ, লাঠিচার্জে কমপক্ষে ১০ সাংবাদিক পুলিশসহ আহত হয়েছেন শতাধিক। তাজহাট থানার ওসি রবিউল ইসলাম সংঘর্ষে শিক্ষার্থী নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান আসিফ আল মতিনও বিষয়টি জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টায় রংপুর নগরীর লালবাগ থেকে শুরু করে মডার্ন মোড়, পার্কের মোড়সহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এই সংঘর্ষ শুরু হয়। যা এখনও চলমান রয়েছে। প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাব্যাপী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের নাম আবু সাঈদ (২২)। তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমর্থক।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর জিলা স্কুল থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী কোটা সংস্কার নিয়ে মিছিল বের করেন। এর আগে নগরীর সব স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সেখানে সমবেত হন। মিছিলটি পুলিশ লাইন্সের কাছে এলে পুলিশ মিছিলকারীদের গতিরোধ করে। এ সময় লাঠিচার্জ করে। কিন্তু পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে মিছিলকারীরা নগরীর জাহাজ কোম্পানি এলাকায় এসে নগরীর প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন। এরপর বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে এসে বিক্ষোভ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ আবারো তাদের গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে চার কিলোমিটার সড়ক অতিক্রম করে নগরীর লালবাগ এলাকায় পৌঁছে সেখানে কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে মিছিলকারীরা রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি এলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ভেতরে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আন্দোলনকারীরা লালবাগ থেকে পার্কের মোড় এবং মর্ডান মোড় পুরো চার কিলোমিটার এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে নিবৃত করার চেষ্টা করে। এ সময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আবু সাঈদ লুটিয়ে পড়েন। তাকে শিক্ষার্থীরা উদ্ধার করে একটি অটোরিকশায় তুলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ তার লাশ হাসপাতালের ডেড হাউজে নিয়ে রেখেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও সংঘর্ষে আহত কমপক্ষে ২৫ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আন্দোলনকারী ও কোটার পক্ষে থাকা সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠি, গাছের ডালসহ বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করছে।
আন্দোলনকারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মামুন অভিযোগ করেছেন, ছাত্রলীগ বহিরাগতদের এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ভেতরে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে ইট ও পাথর নিক্ষেপ করায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তার অভিযোগ, পুলিশের গুলিতে বেরোবির শিক্ষার্থী আবু সাইদ নিহত হয়েছেন।
এর আগে রাজধানীর উত্তরার জসীমউদ্দিন মোড়, কুড়িল বিশ্বরোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, নতুন বাজার, মেরুল বাড্ডা, বনানী, গাবতলী, মিরপুর রোড, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর, মোহাম্মদপুর, শনিরআখড়া ও সাভারের বিরুলিয়াসহ বিভিন্ন পয়েন্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার পরে তারা মিছিল নিয়ে এসব পয়েন্টে অবরোধ শুরু করেন। এরমধ্যে ?কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় বিক্ষোভ করছে স্টেট ইউনিভার্সিটি ও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা নিজের ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নিয়েছেন নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। আর মেরুল বাড্ডায় সড়ক আটকে আন্দোলন করছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি- বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছেন বনানীতে। এদিকে বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর নতুন বাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিছুক্ষণ পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও রাস্তা আটকে এখনও অবস্থান করছে আন্দোলনকারীরা। এতে পাশেপাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে ডিএমপির গুলশান বিভাগের বাড্ডা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রাজন কুমার শাহা দুপুরের দিকে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন এখনও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সকাল সাড়ে ১১টা থেকেই নতুন বাজার মোড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে রেখেছেন। এতে বাড্ডা প্রধান সড়কসহ (প্রগতি সরণি) আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানীর মহাখালীতে রেললাইনও অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এতে করে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সারা দেশের রেলযোগাযোগ সাময়িক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা এসব পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ‘প্রগতি সরণি’ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এসময় অনেককেই হেঁটে গন্তব্যের দিতে যেতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও কোটা বাতিলের দাবিতে রাজধানীর মোহাম্মপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘গত সোমবার আমার ভাই-বোনদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করেছে ছাত্রলীগ। শিক্ষার্থীদের ঐক্য সম্পর্কে সরকারের জানা উচিৎ। এর আগে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে কথা মনে নেই! আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুল হক ভূঁইয়া জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করা হচ্ছে, তারা যেন সড়ক ছেড়ে দেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নাবিস্কো মোড়ে (তাজউদ্দীন সড়ক) অবরোধ করেছেন সাউথইস্ট ও আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। মাহমুদ নামে আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা হবে কেন? আমাদের যৌক্তিক দাবি মানতে হবে। ছাত্রলীগ দিয়ে হামলা করে কোনও লাভ হবে না।’ রাজধানীর শান্তিনগরে অবরোধ করেন আইডিয়াল কলেজ, উইলস? লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী কলেজ ও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর মিরপুর-১০ গোল চক্করে অবরোধ করেছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) ও সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা চালিয়েছেন সরকার দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কোটা সংস্কার আন্দোলন : নিহত ৬, আহত সহস্রাধিক
পথে পথে সংঘর্ষ আগুন গুলি
- আপলোড সময় : ১৭-০৭-২০২৪ ১২:১৮:০৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০৭-২০২৪ ১২:২০:৫৮ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ